Article
নারী শিক্ষার এক আঁতুড়ঘর
লেখক (Author)
জাহারা বিনতে হাশিম
১ জানুয়ারি, ২০২৩
শাহ পরীর দ্বীপ নামটি অনেক সুন্দর। এ নামের মাঝেও নিহিত আছে সৌন্দর্য ও মনকাড়া দৃশ্যের বাহার। মানচিত্রের শেষপ্রান্তে-সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত এই দ্বীপ। যার পূর্ব পাশের নাফ নদীর বহমান স্রোত মানুষের মনে দোলা দেয় ও আনন্দের ফল্গুধারা বয়ে যায়। এই দ্বীপের দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে অবস্থিত বঙ্গোপসাগর। চতুর্দিকে গাছ গাছালি যেনো সবুজের এক সমারোহ। দ্বীপের আকাশের গায়ে পাখ পাখালির কলতান যেনো হাজারো চাঁদের মিলনমেলার প্রেমাস্পদ ধ্বনি। এই চিত্র যেনো অদৃশ্য এক মায়ার আহবান যা খোদার অপরূপ সৌন্দর্যকে বিকশিত করে। বর্তমানে সবদিক দিয়ে দ্বীপের উন্নতি দেখে তনুমনে সৃষ্টি হয় আনন্দের জোয়ার। যে রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের জন্য মানুষের পোহাতে হতো হাজারো যন্ত্রণা। আজ সেই রাস্তা দিয়ে মানুষের চলাচল কত না সহজ হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। দু-ধারে লবণের প্রান্তর ঠিক মাঝখানে সরু হয়ে লেপ্টে আছে কতো সুন্দর রাস্তা যা পর্যটককে এই দ্বীপের প্রতি মোহিত করতে বেশ সহায়ক। লবণ প্রান্তরের মাঝে মাঝে আকাঁবাকা হয়ে বয়ে গেছে ছোট ছোট খাল যা দ্বীপের সৌন্দর্যকে আরো বিমোহিত করে তোলে। এ দ্বীপের মানুষ হালাল রম্নজিতে অভ্যস্ত। বঙ্গোপসাগরের আশেপাশে জেলেদের আনাগোনা হালাল রিযিকের প্রতি তাদের ভালোবাসার বর্হিপ্রকাশ। ছোট ছোট কুটিরে নদীর কিনারে তাদের বসবাস। তারা নদীতে মাছ ধরতে যায়। হালাল রম্নজিতে এই দ্বীপের মানুষ অনেক আনন্দিত। কৃষকেরা কৃষি কাজ করে ; েক্ষত করে ফসল ফলায়। এসব নিয়ে দ্বীপের মানুষেরা গর্ববোধ করে। এই দ্বীপের মানুষ অনেক বেশি ধর্মপরায়ন। তার প্রমাণ হলো এই দ্বীপের প্রতিটি গ্রামে কয়েকটি করে নুরানী মাদরাসা ও বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান। স্‥ুল মাদরাসার প্রসারতা এই দ্বীপের মানুষের শিক্ষার প্রতি ও ধর্মের প্রতি ভালোবাসা ও টানকে আরো বেশি স্পষ্ট করে । খুব ভোরে প্রতিটি গ্রামের মেঠো পথে ছোট্ট ছোট্ট সোনামনিদের কুরআন বুকে নিয়ে মাদরাসার দিকে যাওয়া দেখলে মনে হয় আমরা আছি জান্নাতি পরিবেশে। এই দ্বীপের মা বোনেরা ঐতিহ্যগতভাবে ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট। এখনো এই দ্বীপে শিরক বিদআদের কোন ছোঁয়া লাগে নি। মেয়েদের শিক্ষার জন্য এই দ্বীপে যেমন রয়েছে হাই-স্‥ুল তেমনি ধমীর্য় শিক্ষায়ও পারদর্শী করে তুলতে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে কয়েকেটি মহিলা মাদরাসা। যেখানে মেয়েদের আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ধমীর্য় শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে বেশ সহায়ক। ইসলামিয়া মহিলা মাদরাসা অন্যতম। এই মাদরাসায় মেয়েদের আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি কুরআন হাদিসের বিশেস্নষণমূলক শিক্ষা দেয়া হয়। এই মাদরাসা আমাদের প্রাণের স্পন্দন। এই মাদরাসা আমাদের সঠিক শিক্ষা দিয়ে ইহকালের পাশাপাশি পরকালের জীবনের সফলতার শিক্ষা দেয়া হয়। আগামিবছর হতে এই মাদরাসায় মহিলাদের জন্য দাওরা হাদিস বিভাগ খোলে সফলতার এক দিগন্ত উন্মোচন করবে, ইনশা আল্লাহ।
মাদরাসার নিয়মিত প্রকাশনা এবং সর্বশেষ খবরাখবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।

