
شاه بوري دويب، تيكناف، كوكس بازار. التأسيس: ٢٠١٤م

ইসলামিয়া মহিলা মাদরাসা ও এতিমখানা | শাহ পরীর দ্বীপ, টেকনাফ
মাদরাসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন।
এতিমখানা শাখা চালু।
বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ-এর অন্তর্ভুক্তি।
আধুনিক একাডেমিক ভবন নির্মাণ।
ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রবর্তন।
কক্সবাজার জেলার সীমান্ত উপকূলীয় জনপদ শাহ পরীর দ্বীপ। বঙ্গোপসাগর আর নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত এই ভূখণ্ডে নারী শিক্ষার সুযোগ একসময় অত্যন্ত সীমিত ছিল। স্থানীয় দ্বীনদার মুসলিম সমাজ এবং ওলামায়ে কেরামের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যেখানে আমাদের কন্যারা পর্দার পবিত্রতা বজায় রেখে দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে পারবে।
সেই স্বপ্ন থেকেই ২০১৪ সালে এক অনাড়ম্বর পরিবেশে যাত্রা শুরু করে ইসলামিয়া মহিলা মাদরাসা ও এতিমখানা। শুরুর দিকে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে পাঠদান শুরু হলেও এলাকাবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন এবং মুখলিস ওলামাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এটি আজ শাহ পরীর দ্বীপের অন্যতম প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
"মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল কেবল অক্ষরজ্ঞান দান নয়, বরং শাহ পরীর দ্বীপের পিছিয়ে পড়া নারী সমাজকে কুরআন ও সুন্নাহর সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে একটি আদর্শ সমাজ গঠন করা।"
মাদরাসার অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো এর এতিমখানা শাখা। শাহ পরীর দ্বীপ এলাকার অনেক এতিম ও দুস্থ কন্যা সন্তানের নিরাপদ আশ্রয় এবং শিক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করে এই প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এতিম ছাত্রীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থাকা, খাওয়া এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। স্থানীয় দানবীর এবং প্রবাসীদের সহযোগিতায় এই এতিমখানাটি আজ শত শত মেয়ের স্বপ্নের ঠিকানায় পরিণত হয়েছে।
আমাদের মাদরাসার শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ) এর অধীনে কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় নিয়মিতভাবে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে আসছে। নূরানী, মক্তব এবং হেফজ বিভাগের পাশাপাশি কিতাব বিভাগেও আমাদের ফলাফল অত্যন্ত সন্তোষজনক।
বর্তমান যুগে প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে মাদরাসাটি ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের আওতায় আনা হয়েছে। মুফতী দেলোয়ার হোসাইন সাইফী এর সুযোগ্য নেতৃত্বে এবং পরিচালনা পর্ষদের নিবিড় তদারকিতে প্রতিষ্ঠানটি এখন আধুনিক ও দ্বীনি শিক্ষার এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। শাহ পরীর দ্বীপের মাটিতে ইসলামের এই আলোকবর্তিকা যুগ যুগ ধরে সেবা দিয়ে যাবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।