Article
হৃদয়ের স্নিগ্ধ পরশ
লেখক (Author)
কহিনুর আকতার
১ জানুয়ারি, ২০২৩
শাহ পরীর দ্বীপ নামটি শুনতে যতো না শ্রুতিমধুর; দেখতে আরো বেশি অপরূপ ও মনোহর। রঙ বেরঙের প্রকৃতি এ গ্রামটিকে ঘিরে রেখেছে; যেনো সকল সৌন্দর্য এসে মিলিত হয়েছে এই দ্বীপে। নামের সাথেও এই দ্বীপের মেলবন্ধন ও সূতিকাগার রয়েছে। শাহ পরীর দ্বীপের প্রকৃতির কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ সত্যিই পরীর মতোই মনোমুগ্ধকর। পরী কতো শোভনীয় ও লোভনীয় বাস্তব চোখে দেখি নি; তবে শুনেছি পরীরা নাকি খুব সুন্দর ও প্রেমালু হয়। তবে শাহ পরীর দ্বীপের অপার সৌন্দর্যে মোহিত হয়ে বুঝতে পারি, পরীরাও হয়তো অনেক সুন্দর ও প্রেমাষ্পদ হয়। তবে আরো বুঝতে পারি, পরীরা আমাদের দ্বীপ হতে সৌন্দর্য আহরণ করে পৃথিবীতে বিলি করে । তাই আমাদের দ্বীপ পরীদের চেয়েও সুন্দর ও অপরূপ। এই অপরূপ দেশের বাসিন্দা হয়ে সত্যি নিজেই অনেক গর্বিত। বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত এই শাহ পরীর দ্বীপ। এই দ্বীপের পূর্বে রয়েছে শান্ত সুনিবিড় এক নাফ নদী। যে নদীর কিনারে দাঁড়িয়ে প্রতিবেশী দেশ মায়ানমারের পাহাড় ও প্রকৃতি অবলোকন করা যায়। যে নাফ নদী হতে আমরা শিখতে পারি শান্ত থাকার শিক্ষা ও ঙ্ধর্েযর দীক্ষা। দক্ষিণ-পশ্চিমে দেখতে পাই বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশি ও সফেদ বিস্তৃত জলপ্রান্ত। যে সাগর হতে আমরা শিখতে পারি বিস্তৃত স্বপ্নের শিক্ষা ও অবারিত মমতার দীক্ষা। নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর হতে অনেক মানুষ জীবিকা নিবার্হ করতে সক্ষম। কৃষি, লবণচাষ, মৎস ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হরেক পেশার মিলনস্থল এই দ্বীপ। এই দ্বীপের শিক্ষাব্যবস্থাও পূর্বের তুলনায় অনেকটা এগিয়ে। প্রতিবছর এই দ্বীপের সোনার সন্তানেরা হিফজ প্রতিযোগিতা, কওমী ও সরকারী বিভিন্ন পরীক্ষায় মোহনীয় ফলাফল অর্জন করে বাংলাদেশের মেধা তালিকায় নিজেদের সাফল্যের সূর্য উদিত করে শাহ পরীর দ্বীপের মযার্দাকে আরো উন্নীত করে তোলে। এই দ্বীপে সবুজের মেলা বসে, এই দ্বীপে পাখিদের মিছিল হয়। এই দ্বীপের রূপ কতো আকষর্ণীয় তা বোঝানোর মতো শব্দ অভিধানে আবিস্‥ৃত হয় নি। নানা রকম পাখির সুমধুর ডাকে এই দ্বীপের মানুষের সকাল হয়। এখানে অবলোকন করা যায় ফুলের সাথে প্রজাপতির গুঞ্জনের চিরায়ত চিত্র, গাছের সবুজ ডালে পাখিদের কিচিরমিচির গানের পবিত্র আবহ ও সবুজের স্নিগ্ধতার সাথে আকাশের প্রেমালাপের মুহূর্ত। এগুলি হতে আমরা শিখতে পারি, দলবদ্ধ হয়ে কাজ করতে ও ধনী- গরীবের বিভেদ ভুলে যেতে; সবাইকে এক অপরের স্নেহ মমতায় জীবন ধারণ করতে। এই দ্বীপের প্রকৃতি আমাদের শেখায় ভালোবাসা, মমত্ববোধ ও অপরের দুঃখে ব্যথিত হয়ে একত্ববাদের বাণী বুকে ধারণ করে জীবন পরিচালনা করতে। এই দ্বীপের মানুষ সরলতার গুণে গুনান্বিত ও সহজতার চাদরে আবৃত। বর্তমানে শাহ পরীর দ্বীপ আরো উন্নতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আমদের সবার উচিত, প্রতিটি নামাজে কায়মনোবাক্যে এই দ্বীপ রক্ষার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা ও এই দ্বীপের সকল মানুষের আত্মিক, নৈতিক ও আর্থিক উন্নতির জন্য দোয়া করা।
মাদরাসার নিয়মিত প্রকাশনা এবং সর্বশেষ খবরাখবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।

