Story
গল্পের একটি গল্প
লেখক (Author)
শহিদা আকতার
১ জানুয়ারি, ২০২৩
আমরা যা দেখি না তা আমাদের অতীত। শুধু অতীত না; মনের আলয়ে হয়তো পরাবাস্তব। কিন্তু মনের অনেক পরাবাস্তব কথা বা ঘটনা যখন আমরা শুনি আমাদের খুব কাছের কারো কাছ থেকে তা হয়ে ওঠে বাস্তবতার প্রাণে প্রাণবন্থ এবং তা যদি হয় আরো নিজ এলাকা নিয়ে তা তো মনের অলিতে গলিতে অনিন্দ্য আনন্দ এনে দেয়। ঠিক সেই রকম কিছু গল্প আমি আমার পরিবারের বয়োবৃদ্ধদের কাছে শুনেছি। আজ সেই গল্পের অলিতে গলিতে প্রবেশ করে কলমের নিবের আঁচড় টানবো। আমার দাদী বলতেন, জানো! আমরা যখন ছোট ছিলাম । এই দ্বীপে গাড়ি বলে আজ তোমরা যা দেখছো তা আমরা দেখি নি। এই দ্বীপে গাড়ি মানে নিজের শরীরের নিচের দুই পা'কে বোঝানো হতো। যেখানেই যায় না কেনো দুই পা গাড়ির কাজে ব্যবহার হতো। অথার্ৎ এখানে গাড়ির প্রচলন ছিলো না। আমরা অনেক দূরদূরান্ত পথ অতিক্রম করতাম নিজের শরীরের সাথে লাগানো গাড়ি দিয়ে। আমাদের সমাজে যখন বিয়ে হতো তখন আমরা হেটে হেটে নববধুকে বরণ করতে যেতাম। আমরা না শুধু; নতুন বউ শাশুর বাড়িতে আসতো পায়ে হেটে হেটে। কিছুকাল পরে বিয়েতে পালকির ব্যবহার হতো কিন্তু তাও সমাজের বিত্তদের বিয়েতে। এই দ্বীপে পালকি করে বিয়ে করা বিত্তবান খুব কম ছিলো। জানো, নাতনী! তখন আমরা অনেক সুখে ছিলাম, আনন্দে ছিলাম। এখন তোমাদের যুগে গাড়ি আসছে হরেক রকমের। তাই এখন কেউ আর হাটে না। সামান্য পথ অতিক্রম করার জন্যেও টমটম ইত্যাদি নিয়ে যায়। তাই এখন তাদের শরীরে রোগ বালাই বেশি। কারণ তখন শরীর গাড়ির কাজ করতো তখন শরীরেরও ব্যায়াম হতো। এখন গাড়ি এসে শরীরের ব্যায়াম করে না কেউ । তাই বিভিন্ন রোগ বালাই তাদেরকে আক্রান্ত করে বেশি। জানো, নাতনী! আমরা যখন দূরে কোথাও যেতাম তখন আমরা হোটেল ইত্যাদিতে খাবার খাওয়ার কথা চিন্তা করতাম না। চিন্তা-ই বা কেনো করবো! তখন তো হোটেল ইত্যাদি ছিলো অপ্রতুল। তখন আমরা নিজেদের সাথে 'ভাতের মোচা' নিয়ে যেতাম। এই ভাতের মোচায় জড়িয়ে আছে আমাদের পূর্ব সূরীদের আবেগ ও ভালোবাসার আবহ। যখন কোথাও আমরা বেড়াতে যেতাম তখন অনেক সময় উপহার হিসেবে ভাতের মোচা নিয়ে যেতাম। ঐ ভাতের মোচার ঘ্রাণে পুরো গ্রাম সুগন্ধে ভরে যেতো। জানো, নাতনী! তখন আমরা এক পাড়া হতে অন্য পাড়ায় গিয়ে কলসি ভওে পানি আনতাম। দুই-তিন পাড়া মিলে একটি নলকূপ ছিলো। সূর্য ডুবলে মহিলারা পানির জন্য যেতাম অন্য গ্রামের নলকূপে। সারিবদ্ধভাবে আমরা পানি নিতাম; কখনো আমদের সাথে ঝগড়া ইত্যাদি হতো না। সন্ধ্যার পরে হলেও আমাদের ইজ্জত নিয়ে কোন টেনশন ছিলো না। কারণ তখনকার সমাজে মেয়েদের রক্ষক ছিলো পুরম্নষেরা। বর্তমানে ছেলেদেরকে মেয়েদের রক্ষকের চেয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় বেশি দেখা যায়; আবার সমাজের কিছু মহিলাও মহিলাদের জন্য ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা যায়। এভাবেই কতো গল্প আমাদের দ্বীপ নিয়ে শুনি! মাঝেমাঝে মনে হয় যদি টাইম মেশিনের সাহায্যে চলে যেতে পারতাম সেই অতীতে!
মাদরাসার নিয়মিত প্রকাশনা এবং সর্বশেষ খবরাখবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।

