History
এক চিমটি ইতিহাস
লেখক (Author)
মোছাম্মৎ শেগুফা
১ জানুয়ারি, ২০২৩
শাহ পরীর দ্বীপ কয়েকটি গ্রাম মিলে একটি বড় গ্রাম। টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ড মিলে গঠিত একটি দ্বীপ। নামটি যদিও দ্বীপ কিন্তু বর্তমানে এটি দ্বীপ হিসেবে নেই। কারণ শাহ পরীর দ্বীপ এর সাথে সাবরাং ইউনিয়নের অন্য জায়গার সংযোগস্থল হিসেবে মনোরম রাস্তা হয়েছে। যে রাস্তা দিয়ে অনায়াসে অন্য স্থানে যাওয়া যায়। শাহ পরীর দ্বীপকে বাংলাদেশের মানচিত্রের দক্ষিণের শেষাংশ হিসেবে ধরা হয়। অবস্থানের দিক দিয়ে শাহ পরীর দ্বীপের পশ্চিম ও দক্ষিণে রয়েছে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে নাফ নদী অথার্ৎ নাফ নদীর পূর্বে মায়ানমার ও উত্তরে সাবরাং ইউনিয়নের নয়াপাড়া নামক এলাকা। প্রাচীন ইতিহাস বলে, শাহ পরীর দ্বীপ আয়তনে কখনো বড় হয় আবার কখনো ছোট হয়। বলা যায়, কখনো একুল গড়ে ওকুল ভাঙ্গে। লিখিত ইতিহাস হতে যদ্দুর জানা যায়, তা হলো স্বাধীনতার পূর্বে ‣দর্ঘে প্রায় ১৫কিলোমিটার ও প্রস্থে ১০ কিলোমিটার ছিলো। বর্তমানে তা ছোট হতে হতে ঙ্দর্ঘে ৪কিলোমিটার ও প্রস্থে ৩কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। এই দ্বীপের নামকরণ নিয়ে বিভিন্ন তথ্য বিভিন্ন গন্থে বিভিন্নভাবে পাওয়া যায়। নিম্নে কয়েকটি তথ্য বর্ণনা করা হলো। অষ্টাদশ শতাব্দির কবি সাবারিদ খাঁ কয়রা পরীর মেয়ে শাহ পরী'কে অন্যতম চরিত্র করে "হানিফা ও কয়রাপরী" নামে একটি কাব্য গ্রন্থ রচনা করেন। ঐ চরিত্রকে কেন্দ্র করে এই দ্বীপের নামকরণ করা হলো শাহ পরীর দ্বীপ। জনশ্রুতি আছে যে, সম্রাট শাহ সুজার নাম হতে 'শাহ' ও তার স্ত্রী পরী বানুর নাম হতে 'পরী' নিয়ে এই দ্বীপের নামকরণ করা হলো। কেউ কেউ বলেন, শাহ ফরিদ আওলিয়া'র নামে এই দ্বীপের নামকরণ করা হয়েছে। এই নামকরণ যেভাবে হোক কিন্তু এই জায়গার সাথে নামের মেলবন্ধন খুব বেশি সামঞ্জস্য হয়। সত্যিকার অর্থে এই দ্বীপকে পরীর মতোই লাগে। যোগাযোগ ব্যবস্থার দিকে লক্ষ করলে দেখা যায়, এই দ্বীপের সাথে অন্যান্য এলাকার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই উন্নত। পূর্বেও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত ছিলো কিন্তু ২০১৩ সালে হঠাৎ পশ্চিমের বেড়িবাঁধ ভাঙ্গনে দ্বীপের প্রায় চলিস্নশ হাজার মানুষ পানি বন্দি ছিলো । দ্বীপের মানুষের দুঃখে কষ্টে আকাশে বিচরণ করা পাখিও দুঃখে ব্যতিত হতো। অবশেষে দ্বীপের মানুষের দোয়া ও প্রচেষ্টায় ২০২২ সালে সম্পূর্ণভাবে রাস্তা হয়। শাহ পরীর দ্বীপের মানুষের চোখের পানির বরকত পরিলিক্ষত হয়। শাহ পরীর দ্বীপের মানুষের মন মেজাজ খুবই ভালো ও অতিথি পরায়ণ। সহজ ও সরল মানুষের বসবাস এই দ্বীপে। এই দ্বীপের মানুষের সম্পর্ক যতোটা না ইহকালের তার চেয়ে বেশি পরকালের। ধর্মভীরম্নতা এই দ্বীপের মানুষের ভূষণ। আল্লাহওয়ালা মানুষের সমাবেশস্থল আমাদের এই দ্বীপ যার প্রমাণস্বরূপ বলা যায়, শাহ পরীর দ্বীপের প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরে হাফেজে কুরআন ও আলেম আছে। যারা আলেম নই; তারাও আলেমদের বেশি মুহাব্বত করে ও তাদের সাহচর্যে জীবন কাটায়।
মাদরাসার নিয়মিত প্রকাশনা এবং সর্বশেষ খবরাখবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।

