Story
ছাইয়ের নিচে একটি গোলাপ
লেখক (Author)
সুমাইয়া হোসাইন
৮ মে, ২০২৫
গাজার উপত্যকায় জন্ম নেয় একটি মেয়ে তার নাম ছিল গোলাপ। কী আশ্চর্য, এমন এক নাম যেখানে ফুলের সুবাসের কোনো জায়গা নেই অথচ আশেপাশে শুধু ধোঁয়া, বারুদ আর কান্না! গোলাপ বড় হচ্ছিল এমন এক ভূখণ্ডে, যেখানে ফুল ফোটে না বরং প্রতিদিন ফোটে নতুন শোকের কুঁড়ি। তার বাবা ছিলেন এক মহান আলেম, আল-কুরআনের হাফেজ ও এক সাহসী যোদ্ধা যিনি ফিলিস্তিনের মুক্তির জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি তার আদরের মেয়ে গোলাপকে সবসময় বলতেন, "ওগো আমার গোলাপ, যে ভূমি রক্ত দিয়ে সেচিত হয়, সে ভূমিতেই একদিন স্বাধীনতার ফুল ফোটে।" কিন্তু একদিন ইসরায়েলি বাহিনীর এক নিষ্ঠুর বোমা তার বাবার জীবন কেড়ে নিলো। গোলাপ তখন থেকেই পিতাহীন, শুধু আল্লাহ ছিল তার ভরসা। গোলাপ ছিল তিন বোনের বড়। বয়সে ছোট হলেও দায়িত্বে ছিল বিশাল। তাদের মা সেলাইয়ের কাজ করতেন, আর যা আয় হতো তা দিয়েই তিন মেয়ের মুখে আহার তুলে দিতেন। একদিন সকালে তিন বোন স্কুলে গেল। যাওয়ার সময় মা হাসিমুখে দোয়া দিয়ে বিদায় জানিয়েছিলেন। কিন্তু স্কুল থেকে ফিরে তারা যা দেখলো, তা কোনো শিশুর চোখে দেখা সম্ভব নয়। তাদের ঘর ধ্বংস হয়ে গেছে, চারদিকে ধোঁয়া ও ছাই, আর সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে শুয়ে আছেন তাদের মা-নিঃপ্রাণ, নিথর। গোলাপ চিৎকার করলো, কাঁদলো কিন্তু কিছুই বদলালো না। তখন সে ছোট দুই বোনকে বুকে জড়িয়ে বললো, "আজ থেকে আমি তোমাদের মা।" সেদিন থেকেই গোলাপের জীবন বদলে যায়। সে আর খেলনা নিয়ে খেলে না নতুন কোন স্বপ্ন দেখে না। প্রতিদিন সকালে সে বাজারে যায় - এক প্রতিবেশী মহিলার বানানো রুটি বিক্রি করে তারপর সেই টাকা দিয়ে খাবার কিনে ছোট দুই বোনকে খাওয়ায়। রাতে তাদের কোরআন পড়ে শোনায়, বাবার বীরত্বের কথা বলে, এবং মায়ের ভালোবাসার গল্প বলে। আর যখন রাত গভীর হয় তখন সে আকাশের দিকে তাকিয়ে দোয়া করে। "হে আল্লাহ, আমাকে শক্তি দাও যেন আমি ভেঙে না পড়ি। আমাকে এমন এক গাছ করো, যে ঝড়েও নত হয় না, যতক্ষণ না আমি মুক্ত আকসাকে দেখি আর আমার বোনেরা শান্তিতে বাঁচে।" গোলাপ বয়সের আগেই বড় হয়ে যায়। কিন্তু সে কোনো দিন ভাঙে না, হার মানে না। সে এমন এক ফুল যে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ফোটে ওঠে। তার অশ্রু ও ত্যাগই তাকে করে তোলে প্রতিরোধের প্রতীক, এক অন্তহীন সাহসিকতার গল্পের রেখা।
মাদরাসার নিয়মিত প্রকাশনা এবং সর্বশেষ খবরাখবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।

